Wednesday, 30 July 2025

যোগাচার বা বিজ্ঞানবাদ সম্পর্কে শান্ত রক্ষিতের বক্তব্য ব্যাখ্যা কর। অথবা, যোগাচার বা বিজ্ঞানবাদ সম্পর্কে শান্ত রক্ষিতের বক্তব্য ব্যাখ্যা কর।

প্রশ্ন - ৫: যোগাচার বা বিজ্ঞানবাদ সম্পর্কে শান্ত রক্ষিতের বক্তব্য ব্যাখ্যা কর। 

অথবা, যোগাচার বা বিজ্ঞানবাদ সম্পর্কে শান্ত রক্ষিতের বক্তব্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর :

ভূমিকা: খ্রিস্টের জন্মের অনেক আগেই বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের আগমন ঘটে। তবে সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-২৩২) এর রাজত্বকালে বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম বিস্তার ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পাল আমলে বৌদ্ধধর্ম দর্শন সবচেয়ে বেশি প্রসার লাভ করে। তাই বিশ্বে যে কয়জন মহান বৌদ্ধ দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে তাদের মধ্যে শান্তরক্ষিতের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি সুদূর তিব্বতে গিয়ে নিজের মতকে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

শান্তরক্ষিতের দর্শনতত্ত্ব: শান্তরক্ষিত ছিলেন বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনের একজন বড় পণ্ডিত। তাঁর দর্শন সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় নি। তবে তিনি বিজ্ঞানবাদী ও যোগাচারবাদী হিসেবে অত্যন্ত যুক্তিনিষ্ঠভাবে জীবনকে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দর্শনের প্রধান যুক্তি ছিল কোন কিছু গ্রহণ করা বা বর্জন করা।

তিব্বতের রাজা ঠিস্রোং শান্তরক্ষিতের ভাষা বুঝতেন না। তাঁর ভাষা বুঝার জন্য তিনি তিনজন লোককে তার নিকট পাঠালেন। তারা শান্তরক্ষিতের ভাষা বুঝলেন না। অতঃপর তিনি কাশ্মীরি পণ্ডিত অনন্তকে তার নিকট পাঠালেন এবং রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ জানালেন। গোই লোচাবা এ প্রসঙ্গে বলেন যে, রাজা মন্ত্রীদের আদেশ দিলেন বৌদ্ধধর্মের উপাধ্যায় বা' শান্তরক্ষিতকে রাজপ্রাসাদে আনা হোক। মন্ত্রীরা উপাধ্যায়ের নিকট গিয়ে রাজার কথা জানালেন। উত্তরে উপাধ্যায় বা শান্তরক্ষিত বললেন, যুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষানিরীক্ষা করে যেটা ভালো মনে হবে সেটাকে আমি গ্রহণ করব। আর অন্যটিকে বর্জন করব। শান্তরক্ষিত- তার এ যুক্তিবাদকে তিব্বতে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তিব্বতে প্রচলিত পোন ধর্মের অযৌক্তিক জাদু মন্ত্র, ভূত প্রেতবাদে বিশ্বাসীসহ নানা গুহ্য সাধন মতবাদের বিরোধিতার সম্মুখীন হন। তিনি তাঁর শিষ্য পদ্মসম্ভব ও কমলশীলের সাহায্যে এ বিরোধিতাকে অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

শান্তরক্ষিত নিজেকে একজন দার্শনিক ধর্মপ্রচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ধর্মপ্রচারের পাশাপাশি বেশকিছু মূল্যবান দার্শনিক গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে 'তত্ত্বসংগ্রহ' অত্যন্ত মূল্যবান একটি দার্শনিক গ্রন্থ। তাছাড়া অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো অষ্ট তথাগত স্তোত্র, বজ্রধর সংগীত ভগবতস্তোত্র টীকা, তত্ত্ব সংগ্রহ কারিকা, হেবজ্র উদ্ভব কুরকুলাহ, পঞ্চ মহোপদেশ, তথাসিদ্ধিনাম প্রকরণ, বিভংগ পঞ্জিকা, মধ্যমক অলংকার, ভাদন্যায় ভিত্তি, দগুলেখা প্রভৃতি।

উপসংহার: শান্তরক্ষিত শুধু জ্ঞানী ব্যক্তি ও পণ্ডিতই ছিলেন না। তিনি জনসাধারণের বন্ধুও ছিলেন। তিনি তাঁর পাণ্ডিত্যকে জনগণের মাঝে বিলীন করার সফলতাও অর্জন করেছিলেন। তিনি তিব্বতের জনগণের মধ্যে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করতে পেরেছিলেন। বৌদ্ধধর্মে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাই বৌদ্ধধর্মে তার অবদানের গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না।




বাঙালির দর্শন কি প্রকৃত দর্শন? ব্যাখ্যা কর।

 প্রশ্ন - ৪: বাঙালির দর্শন কি প্রকৃত দর্শন? ব্যাখ্যা কর।


উত্তর :

ভূমিকা : 'দর্শন' শব্দের উৎপত্তি দৃশ্ ধাতু থেকে। দৃশ্ + অনট = দর্শন। তাই শাব্দিক অর্থে দর্শন বলতে কোন কিছু দেখাকে বুঝায়। কিন্তু দর্শন শাস্ত্রে দর্শন শব্দটিকে বিশেষ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ অর্থে দর্শন বলতে তত্ত্বানুসন্ধান দ্বারা জ্ঞান লাভের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে বুঝায়। প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব একটি দর্শন রয়েছে, যেমন- গ্রিক দর্শন, ইউরোপীয় দর্শন, ভারতীয় দর্শন ও মুসলিম দর্শন। তেমনি বাঙালি জাতির প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন দার্শনিক সমস্যা সম্পর্কে সুচিন্তিত মতামত নিয়ে যে দর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা বাঙালি দর্শন নামে সুবিদিত।

বাঙালি দর্শন কি প্রকৃতই দর্শন: অতি প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিককাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বিভিন্ন তাত্ত্বিক চিন্তাধারার উল্লেখ ও অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বাঙালির দার্শনিক ঐতিহ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর মধ্যে প্রাক বৈদিক চিন্তাধারা, বেদ বিরোধী চিন্তাধারা, ইসলামি চিন্তাধারা, দেশজ মরমি চিন্তাধারা ও পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারা বিদ্যমান। এসব চিন্তাধারার মধ্যে প্রাক বৈদিক লোকায়ত দর্শন বা চার্বাক দর্শন এবং পাশ্চাত্যের অনুপ্রবিষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারা ছাড়া অন্যান্য তাত্ত্বিক চিন্তাধারা পারলৌকিক চিন্তাধারাকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। এতে জীবন ও জগৎ বিষয়ক সমস্যাদির উত্তর খোঁজা হয়েছে।

এক বৈদিক চিন্তাধারা আবর্তিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট ধর্মকে কেন্দ্র করে। সুতরাং ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ পাশ্চাত্য দর্শনের চিন্তাধারা এখানে না আসা পর্যন্ত বাঙালির দর্শন ছিল ধর্ম বিশ্বাসকেন্দ্রিক। সেজন্য এ দর্শনকে বিশুদ্ধ না বলে ধর্ম দর্শন বা ধর্ম প্রভাবিত দর্শনরূপে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

তবে বাংলাদেশে দার্শনিক আলোচনায় ধর্মের প্রাধান্য থাকার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এ দেশ মানবজাতির চারটি প্রধান ধর্মের অর্থাৎ মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধধর্মের মিলনস্থল। বাংলাদেশে প্রাক বৈদিক ধর্মের সাথে উক্ত চারটি ধর্মেরই মিলন ঘটেছে এবং এগুলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও লাভ করেছে।

তবে উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে এক নবদিগন্তের সূচনা হওয়ার ফলে অন্ধ কুসংস্কার ও শাস্ত্রের আনুগত্য থেকে মুক্তির প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে অনেকটা মুক্তচিন্তার অধিকারী হয়ে কয়েকজন চিন্তাবিদ দর্শন চর্চায় এগিয়ে আসেন।

এসব চিন্তাবিদদের মধ্যে স্যার ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, হরলাল হাওলাদার, কে. সি. ভট্টাচার্য ও হরিদাস ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁরা সবাই ছিলেন ভাববাদী। এসব চিন্তাবিদদের ভাবধারা প্রখ্যাত দার্শনিক ড. জি. সি. দেবের লেখনীতেও ফুটে উঠে। তবে ড. জি. সি. দেব প্রচলিত অর্থে শুধু ভাববাদী ছিলেন না। তিনি ভাববাদ ও বস্তুবাদের মধ্যে একটা সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করে গেছেন। সেদিক থেকে তাঁর দর্শন হচ্ছে 'সমন্বয়ী ভাববাদ'। শুধু ভাববাদই নয়, এ দেশের দর্শন আলোচনায় বস্তুবাদও স্থান পেয়েছে। এক্ষেত্রে আরজ আলী মাতুব্বরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উপসংহার: উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, বাঙালি দর্শন শুরুতে জড়বাদী এবং বৈদিক যুগ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ধর্মভিত্তিক। কিন্তু এরপর পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারার সাথে সঙ্গতি রেখে ড. জি. সি. দেবসহ বহু দার্শনিক তাঁদের সুচিন্তিত মতামত দ্বারা বাঙালি দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছেন। আর এখানেই বাঙালি দর্শনের যথার্থতা নিহিত।

দর্শনে লোকায়ত বা চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব লিখ। অথবা, বাঙ্গালি দর্শনে লোকায়ত বা কাবার্ক দর্শনের গুরুত্ব কী?

প্রশ্ন - ৩: দর্শনে লোকায়ত বা চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব লিখ।

অথবা, বাঙ্গালি দর্শনে লোকায়ত বা চাবার্ক দর্শনের গুরুত্ব কী?


উত্তর:

ভূমিকা : বাঙালি দর্শন তথা সমগ্র ভারতীয়

উপমহাদেশের দার্শনিক চিন্তা চেতনায় চার্বাক বা লোকায়ত দর্শন একটি ব্যতিক্রমী চরিত্রের অধিকারী। ভারতীয় বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায়ের মধ্যে একমাত্র চার্বাকই বিশুদ্ধ জড়বাদী দর্শন। চার্বাক দর্শন সম্পর্কে কোন প্রামাণিক গ্রন্থ পাওয়া না গেলেও এ দর্শন যে অতি প্রাচীন তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ, বেদ, রামায়ণ, মহাভারত মহাকাব্যে এবং প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের নানা স্থানে। এই মতবাদের উল্লেখ পাওয়া যায়। বাঙালি দর্শনও অতি প্রাচীন বিধায় এ দর্শনে চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

বাঙালি দর্শনে লোকায়ত বা চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব: হাজার বছরের ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু-অহিন্দু নির্বিশেষে সকল শ্রেণির বাঙ্গালী চিন্তাবিদদের দ্বারা যে দার্শনিক চিন্তাধারা গড়ে উঠেছে তাই বাঙ্গালী দর্শন। বাঙ্গালী দার্শনিক চিন্তাচেতনার সর্বস্তরে ভারতীয় সব ধরনের দার্শনিকদের সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। যদিও সুস্পষ্টভাবে কোন গ্রন্থে বাঙ্গালী চিন্তায় চার্বাকদের গুরুত্বের কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না, তথাপি দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই বাঙ্গালীরা চার্বাকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। সে দিকগুলো নিম্নরূপ:

আধ্যাত্মিকতার বিরোধিতা: বাঙ্গালী দর্শনে আধ্যাত্মিকতার চরম রূপ আবার এর চরম বিরোধিতা দেখা যায়। বিরোধিতার যে ধারা তা অনেকটাই পাওয়া গেছে চার্বাকদের কল্যাণে। যারা ভারতবর্ষকে আধ্যাত্মিকতার পীঠস্থান বলে মনে করেন, চার্বাক দর্শন তাদের মতের বিরুদ্ধে জ্বলন্ত বিদ্রোহস্বরূপ। চার্বাকরা মনে করতেন এ বিশ্বজগতে কোন আধ্যাত্মিক সত্তা নেই। আমাদের মাঝে আধ্যাত্মিক সত্তার যে ধারণা আছে তা আমাদের মধ্যে বিশেষ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে আমাদের মতোই কারো দ্বারা। তারা তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য আমাদের মাঝে এসব ধারণা প্রোথিত করেছেন।

বস্তুবাদের জয়গান: আজকাল আমরা বাঙ্গালী দর্শনে বস্তুবাদের যে বিজয় পতাকা দেখতে পাই, ভারতের প্রাচীন চার্বাক দর্শন ছিল তার অগ্রদূত। এ কথা স্বীকার করতে কারো কোন বাধা নেই যে বাঙ্গালীর চিন্তা ও মননে, কর্ম ও সাধনায় যদিও অধ্যাত্মবাদ ছিল প্রায় অপ্রতিহত, তবুও এ সনাতন চিন্ত ায় চার্বাকরা এমন ধারণার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন, যার ফলে বাঙ্গালীরা (কিছুসংখ্যক) চলে যায় প্রচলিত বিশ্বাস ও দর্শনের বিপরীত মেরুতে।

মানব সমীক্ষা: বাঙ্গালী দর্শনে মানব সমীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর আলোচনার ধারা সৃষ্টির ক্ষেত্রে চার্বাকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের উৎপত্তি ও তার জীবনাদর্শসহ সমগ্র মানব পরিস্থিতি চার্বাক দর্শনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। অন্যান্য অনেক সমস্যার মতো মানুষের উৎপত্তি বিষয়ক প্রকল্পটিও চার্বাক দর্শনে জড়বাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। চার্বাক দার্শনিকদের মতে ক্ষিতি, অপ, তেজঃ ও মরুৎ এই চারটি শাশ্বত জড়োপাদানের মাধ্যমেই মানুষের উৎপত্তি হয়েছে। চিরন্তন আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার বাঙ্গালী দার্শনিকদের একটি ধারা চার্বাকদের ন্যায় চিরন্তন আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। চার্বাকরা মনে করতেন, যতদিন দেহ আছে ততদিন চেতনা আছে। দেহাবসানের সঙ্গে সঙ্গে চেতনারও অবসান ঘটে। তাই আত্মা বা চেতনা দেহেরই ধর্ম। দেহের অনুপস্থিতিতে আত্মা বা চেতনার কল্পনাও করা যায় না। চার্বাকদের এ মতবাদই দেহাত্মবাদ নামে পরিচিত যা পরবর্তীতে বাঙ্গালী দর্শনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

মানব জীবনের পরম লক্ষ্য: চার্বাক দর্শনে সুখ অর্জনকেই মানবজীবনের পরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তারা মনে করেন, সুখের অনুসন্ধান এবং তা অর্জনই মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ। যে যত বেশি সুখ অর্জন করবে সে তত বেশি ভালো। অবশ্য এ কথা ঠিক যে, জগতে অব্যাহত সুখ অর্জন করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। দুর্ভোগমুক্ত অবিমিশ্র সুখের অস্তিত্ব এ জগতে নেই। সুখ সম্পর্কিত চার্বাক এ চিন্তাও 'বাঙ্গালী দার্শনিক চিন্তায়। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়েছে।

উপসংহার: উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, ভারতীয় দর্শনের অন্যতম প্রাচীন ধারা হিসেবে চার্বাক দর্শন এ উপমহাদেশের সব দার্শনিক চিন্তায়ই কোন না কোনভাবে প্রভাব ফেলেছে। বাঙ্গালী দর্শনের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বাঙালি কিছু দার্শনিক চিন্তাধারায় চার্বাকদের। কোন গুরুত্ব না থাকলেও এর এক বিরাট অংশ চার্বাকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিল এবং এখনও আছে। তাই বাঙ্গালী দর্শনে চার্বাকদের গুরুত্ব যে অপরিসীম তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

Monday, 28 July 2025

সংক্ষেপে চার্বাক মত ব্যাখ্যা কর?

 

প্রশ্ন- ২ : সংক্ষেপে চার্বাক মত ব্যাখ্যা কর?


উত্তরা:

ভূমিকা: চার্বাক দর্শন ভারতীয় দর্শনের একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রদায়। ভারতীয় দর্শনের ৬২টি সম্প্রদায়ের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম সম্প্রদায় হলো চার্বাক সম্প্রদায়। বেদের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে তার পবিত্রতা খণ্ডনের মাধ্যমে চার্বাক দর্শন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এ দর্শনের কোন মূল গ্রন্থ পাওয়া না যাওয়ায় এ দর্শনের প্রতিষ্ঠা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠাতা যাই হোক না কেন চার্বাক দর্শন মূলত নাস্তিক দর্শন বা জড়বাদী দর্শনকে বুঝায়।

চার্বাক দর্শন: ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে চার্বাক দর্শনই একমাত্র বিশুদ্ধ জড়বাদী দর্শন। যে মতবাদ অনুসারে অচেতন জড়বাদী পদার্থই একমাত্র সত্তা এবং মন, প্রাণ, চৈতন্য প্রভৃতি জগতের সব বস্তুই জড় পদার্থ হতে উদ্ভূত সে মতবাদই জড়বাদ। জড়বাদীরা আত্মা এবং ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না।

চার্বাক দর্শন সম্পর্কে কোন প্রামাণিক গ্রন্থ পাওয়া না গেলেও এটা যে অতি প্রাচীন দর্শন এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ বেদ, রামায়ণ, মহাভারত, মহাকাব্য এবং প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের স্থানে স্থানে এ মতবাদের উল্লেখ পাওয়া যায়। তদুপরি ভারতের অন্যান্য দার্শনিক সম্প্রদায় চার্বাক মতবাদ খণ্ডন করার জন্য চার্বাক মতবাদের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা হতেও চার্বাক দর্শন ও তার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে পারি। চার্বাক দর্শনের সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তীকালে দর্শনের ক্ষেত্রে স্বীকৃত না। হলেও জড়বাদ একটি বিশিষ্ট দার্শনিক মতবাদ বলে চার্বাক দর্শন ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করেছে।

চার্বাক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা কে এ নিয়ে দার্শনিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, প্রাচীন কালে চার্বাক নামে এক ঋষি ছিলেন। তিনি চার্বাক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। আবার কেউ। কেউ বলেছেন, 'চব' ধাতু থেকে চার্বাক শব্দটির উৎপত্তি। 'চর' ধাতুর অর্থ চর্বণ করা বা খাওয়া। এ দর্শন খাওয়াদাওয়াকে জীবনের পরম লক্ষ্য বলে মনে করে। তাই এ দর্শনের নাম চার্বাক।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতীয় বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায়ের মধ্যে চার্বাক দর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ভারতীয় বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায় যেখানে বেদ এবং উপনিষদকে কেন্দ্র করে তাদের দর্শন চর্চা করেছেন সেখানে চার্বাক দর্শন বেদ ও উপনিষদকে অস্বীকার করে তাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হয়ে মুক্ত ও স্বাধীন চিন্তার মাধ্যমে দর্শন চর্চা করেছেন।



বাঙালির দর্শন কী? | অথবা,বাঙালির দর্শন কাকে বলে? | অথবা, বাঙালি দর্শনের সংজ্ঞা দাও|

প্রশ্ন ১) বাঙালির দর্শন কী?

অথবা,বাঙালির দর্শন কাকে বলে?

অথবা, বাঙালি দর্শনের সংজ্ঞা দাও।


উত্তরা :

ভূমিকা: বাঙালির দর্শন চিন্তার ইতিহাস সুপ্রাচীন।

অন্যান্য জাতি দ্বারা বাঙালি শাসিত হলেও নিজস্ব মনন সাধনার ব্যাপারে সে স্বতন্ত্র ছিল। বাঙালি দর্শনে অন্যান্য জাতির দর্শন চিন্তার প্রভাব লক্ষ করা যায়। ইতিহাসের প্রাথমিক যুগ থেকেই বাঙালি দর্শন ছিল সমৃদ্ধ। বিভিন্ন চিন্তাধারার সাথে নিজস্ব চিন্তার সমন্বয় ঘটিয়ে বাঙালি দর্শন চর্চা করেছে।

বাঙালি দর্শন: বাঙালি জাতীয় মনন সাধনার ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, অন্যান্য প্রাগ্রসর জাতির মতো বাঙালির দর্শন চিন্তা ও ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে বিভিন্নভাবে বিকশিত হয়েছে। বাঙালি দর্শন বিকাশের প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগে জগৎ ও জীবনের স্বরূপ ও গূঢ়ার্থ আবিষ্কার এবং যথার্থ মানবোচিত জীবনের অনুসন্ধানসহ মানুষকে নিয়ে মানুষের ভাবনা বাঙালির দর্শন চিন্তায় একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যরূপে দেখা দিয়েছে। তাই বলা যায়, বাঙালি দর্শন হলো বাঙালির ধ্যানধারণা, চিন্তামনন, ভাবধারা, মতামত, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদির সংমিশ্রণ। বাঙালি দর্শন নিছক দুঃখবাদী কিংবা ভাববিলাসী দর্শন নয়; বাঙালি দর্শন হলো জগৎ ও জীবনের সাথে সম্পর্কিত দর্শন। তাই বলা যায়, বাংলা ও বাংলার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় রূপ ও রসের মাধুর্যে আপ্লুত হয়ে মরমি চেতনায় উদ্বুদ্ধ যে দর্শন তাকেই বাঙালি দর্শন বলে অভিহিত করা হয়।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা: বিভিন্ন দার্শনিক বিভিন্নভাবে বাঙালির দর্শনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিম্নে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করা হলো:

অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায় বলেন, "যে প্রজ্ঞাময় দর্শন বাংলাদেশের আবহমান কালের বিশাল পটভূমিতে, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে এ পর্যন্ত বিবর্তিত হয়েছে তাই বাঙালির দর্শন।"


অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, "বাঙালির দর্শন কেবল সমদর্শন নয়, খালি পরলোক চর্চা নয়, তত্ত্ববিদ্যার নিছক রোমন্থন ও কসরত নয়, পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের যে কোন সার্থক দর্শনের ন্যায় বাঙালি দর্শনও মূলত জীবনদর্শন, উন্নত মানবজীবন প্রণয়ন ও যাপনের উপায়ানুসন্ধান।"


অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন আহমেদ এর মতে, “বাঙালি দর্শন মুক্তি বা মোক্ষ লাভকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।”


উপসংহার: উপরের আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি, বাঙালির দর্শন হলো বাঙালির শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিন্তা-চেতনা, মনন ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচিত জীবনদর্শন। বাঙালি দার্শনিক, পণ্ডিত, মুনিঋষীদের জ্ঞাতগর্ভ চিন্তার ফসল হলো বাঙালির দর্শন।



বাঙালির দর্শন প্রাচীন ও মধ্যযুগ 'খ' বিভাগের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (অনার্স তৃতীয় বর্ষ)| পরিক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি |



বাঙালির দর্শন: প্রাচীন ও মধ্যযুগ
(অনার্স তৃতীয় বর্ষ)
বিষয় কোড: 231709

খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি (Short Questions)


১.বাঙালির দর্শন কী? অথবা, বাঙালির দর্শন কাকে বলে?

২. সংক্ষেপে চার্বাক মত ব্যাখ্যা কর।

৩. দর্শনে লোকায়ত বা চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব লিখ।

 অথবা, বাঙ্গালি দর্শনে লোকায়ত বা কাবার্ক দর্শনের গুরুত্ব কী?

৪. বাঙালির দর্শন কি প্রকৃত দর্শন? ব্যাখ্যা কর।

৫.যোগাচার বা বিজ্ঞানবাদ সম্পর্কে শান্ত রক্ষিতের বক্তব্য ব্যাখ্যা কর। 

অথবা, যোগাচার বা বিজ্ঞানবাদ সম্পর্কে শান্ত রক্ষিতের বক্তব্য ব্যাখ্যা কর।

৬.শান্তিদেবের মানবতাবাদী মতের ব্যাখ্যা দাও।

অথবা, শান্তিদেবের মানবতাবাদী দর্শন সংক্ষেপে লিখ।

৭. শান্তিদেবের বোধিচর্যা সংক্ষেপে লিখ। 

অথবা, শান্তিদেব যটপারমিতা বলতে কী বুঝিয়েছেন?

৮. প্রজ্ঞা পারমিতা ব্যাখ্যা কর।

অথবা, প্রজ্ঞা পারমিতা বলতে শান্তিদেব কী বুঝিয়েছেন?

৯.সংক্ষেপে শান্তিদেব দর্শন সম্পর্কে আলোচনা কর।

১০. অতীশ দীপঙ্করের দার্শনিক চিন্তাভাবনা ব্যাখ্যা কর।

১১. অতীশ দীপঙ্করের দর্শন সম্পর্কে লিখ।

অথবা, অতীশ দীপঙ্করের দর্শন সম্পর্কে কি জান? সংক্ষেপে লিখ।'

১২.চর্যাপদের সহজিয়া দর্শন কী? 

১৩.বাঙালি দর্শনে চর্যাপদ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

 অথবা, ব্যঙালি দর্শনে চর্যাপদের গুরুত্ব লেখ।

১৪.জয়দেবের সমাজ দর্শন সংক্ষেপে আলোচনা কর। 

১৫. বৈষ্ণবীয় প্রেমতত্ত্ব সংক্ষেপে আলোচনা কর।

১৬.গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন কী?

অথবা, গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন বলতে কী বুঝ?

১৭. সংক্ষেপে বৈষ্ণবদর্শনের উৎসসমূহ আলোচনা কর।

১৮. সুফি দর্শনের আত্মাতত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর।

অথবা, আত্মা সম্পর্কে সুফিবাদের ব্যাখ্যা তুলে ধর।

১৯. "এই মানুষে সেই মানুষ আছে" কে বলেছেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর। 

২০. বাউল দর্শনের প্রেমতত্ত্ব আলোচনা কর।

বাঙালির দর্শন প্রাচীন ও মধ্যযুগ 'ক' বিভাগের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (অনার্স তৃতীয় বর্ষ)| পরিক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি |


এখানে বিগত সালের প্রশ্ন সহ কিছু গুরুত্ব পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো। আশাকরি পরিক্ষায় এখান থেকে অধিকাংশ প্রশ্ন পাবেন।

বাঙালির দর্শন: প্রাচীন ও মধ্যযুগ
(অনার্স তৃতীয় বর্ষ)
বিষয় কোড: 231709

ক-বিভাগ :

১. বাঙালির দর্শন কি?

উত্তর: বিভিন্ন যুগে বাঙালির চিন্তা-চেতনা মননে জগৎ, জীবন, ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে যে দার্শনিক মতবাদ গড়ে উঠেছে তাই বাঙালির দর্শন।


২. বাঙালির দর্শন চর্চার সূচনা করেন কারা?

উত্তর: প্রাচীন বাঙালিরা অর্থাৎ অনার্যরা এদেশে দর্শন চর্চার সূত্রপাত করেন।


৩. বাঙালির দর্শনের সূচনা কোথা থেকে হয়?

উত্তর: প্রাচীন বাংলার লোকায়ত বা চার্বাক সম্প্রদায় হতে।


৪. 'বাঙালি' শব্দটির উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে?

উিত্তর: বঙ্গাল শব্দ হতে।


৫. বাঙালি দর্শনের দুটি অবৈদিক উপাদান লেখ।

উত্তর: বাঙালি দর্শনের দু'টি অবৈদিক উপাদান শাক্ত ও শৈব মত।


৬. বাঙালি দর্শনের প্রাচীন ও মধ্যযুগের সময়কাল লেখ।

উত্তর: খ্রিষ্টপূর্ব যুগ থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত (প্রাচীন কাল)। দ্বাদশ থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত (মধ্যযুগ)।


৭.বাঙালি দর্শন কি সমন্বয়ধর্মী?

উত্তর: হ্যাঁ বাঙালি দর্শন সমন্বয়ধমী।


৮. বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন কোনটি?

উত্তর: চর্যাপদ।


৯. চর্যাপদ কি?

উত্তর: বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মসাধনার নিগূঢ় পদ্ধতি ও বাণী সম্বলিত গীতি সংকলনকে চর্যাপদ বলে।


১০. চর্যাপদ কীসের সংকলন?

উত্তর:বৌদ্ধ মহাজিয়া গীতি সংকলন।


১১. চর্যাপদের পদকর্তা কতজন? 

উত্তর: চর্যাপদের পদকর্তা ২৪ জন।


১২. চর্যাপদ কোথায় পাওয়া গিয়েছিল?

উত্তর: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ পাওয়া গিয়েছিল।


১৩. বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের নাম লেখ।

উত্তর: ত্রিপিটক।


১৪. 'বৌদ্ধ' ধর্মগ্রন্থের নাম এবং প্রকারভেদ লিখ।

উত্তর: বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের নাম ত্রিপিটক এবং প্রকারভেদ : ১. বিনয় পিটক, ২. সুত্ত পিটক ও ৩. অভিধম্ম পিটক।


১৪. 'সকলই দুঃখময়'-কে বলেছেন?

 উত্তর: 'সকলই দুঃখময়' গৌতম বুদ্ধ বলেছেন।


১৬. বুদ্ধের চারটি আর্যসত্য লিখ।

উত্তর: চারটি আর্যসত্য হলো: (ক) দুঃখ আছে, (খ) দুঃখের কারণ আছে (গ) দুঃখের নিবৃত্তি আছে (ঘ) দুঃখ নিবৃত্তির উপায় আছে।


১৭. 'বোধিচিত্ত কি?

উত্তর: তিনিই বোধিসত্ত্ব, যিনি কুশল কর্ম ও সদাচার অনুষ্ঠান দ্বারা পরম মুক্তি বা নির্বাণ প্রাপ্ত হয়ে অবলীলাক্রমে তা অগ্রাহ্য করে বিশ্বের কল্যাণ ও মুক্তি কামনায় আত্মোৎসর্গ করেছেন এবং জগতের দুঃখদাহের মধ্যে অগণিত মানুষের দুঃখের বোঝা গ্রহণ করতে দৃঢ়সংকল্প, পারমিতাসমূহ আচরণ করে উদয়নের পথে দশভূমি অতিক্রম করে যিনি বুদ্ধত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।


১৮. বাংলাদেশে বসবাসকারী বৌদ্ধদের মধ্যে প্রভাবশালী ধারা কোনটি?

উত্তর: বজ্রযান বা সহজযান।


১৯. সহজিয়া কী?

উত্তর: সহজিয়া একটি বিশেষ ধর্মসম্প্রদায় যারা

সহজপথে সাধনা করে।


২০. বৌদ্ধধর্মের প্রধান দুটি সম্প্রদায়ের নাম কী কী?

উত্তর: বৌদ্ধধর্মের প্রধান দুটি সম্প্রদায়ের নাম হলো: হীনযান সম্প্রদায় এবং মহাযান সম্প্রদায়।


২১. হীনযান কারা?

উত্তর: হীনযান একটি বৌদ্ধ সম্প্রদায় যারা মনে করে প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁর নিজের মুক্তির জন্য চেষ্টা করবে, অন্যের মুক্তির কথা চিন্তা করা তার কাজ নয়।


২২. মহাযান কারা?

উত্তর: যারা নিজের মুক্তি কামনা না করে সর্বজীবের মুক্তি কামনা করে তারাই মহাযান।


২৩. শান্ত রক্ষিতকে তিব্বতীয়রা কী নামে ডাকত? উত্তর: শান্ত রক্ষিতকে তিব্বতীয়রা শিবাছো বা শান্তি জীব নামে ডাকত।


২৪. শান্তরক্ষিত কোন বৌদ্ধ বিহারের আচার্য ছিলেন?

উত্তর: শান্তরক্ষিত ছিলেন নালন্দা বৌদ্ধ বিহারের আচার্য।


২৫. শান্তরক্ষিত কে ছিলেন?

উত্তর: শান্তরক্ষিত ছিলেন নালন্দা বিহারের আচার্য, বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন প্রচারক।


২৬. শীলভদ্র কে?

উত্তর: শীলভদ্র ছিলেন একজন বৌদ্ধ দার্শনিক।


২৭. শীলভদ্র কোন মহাবিহারের আচার্য ছিলেন?

উত্তর: শ্রীলভদ্র নালন্দা মহাবিহারের আচার্য ছিলেন।


২৮. অতীশ দীপঙ্করের প্রচারিত মতবাদের নাম কী?

উত্তর: মহাযানী বৌদ্ধ ধর্মমত।


২৯. শান্ত রক্ষিত কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: শান্ত রক্ষিত আনুমানিক ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা জেলার জাহারো বা সাহোরে (বর্তমান সাভার) এক রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন।


৩০. অতীশ দীপঙ্কর জন্মস্থান কোথায়?

উত্তর: অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান ৯৮২ (মতান্তরে ৯৮০) খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের বিক্রমপুর পরগণার  অন্তর্গত বজ্রোযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রণ করেন।


৩১. বৈষ্ণব ধর্মের প্রধান অনুষ্ঠান কী?

উত্তর: শ্রীবিষ্ণুর (কৃষ্ণের) নামকীর্তন।


৩২. 'অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব' কি?

উত্তর: অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব হলো বৈষ্ণববাদের একটি তত্ত্ব। বৈষ্ণববাদ অনুসারে রাধা ও কৃষ্ণ বিভিন্ন হয়েও অভিন্ন দুই হয়েও এক, যাকে অচিন্ত্যবাদ বলা হয়।


৩৩. গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক কে?

উত্তর: শ্রীচৈতন্যদেব।


৩৪. চৈতন্যদেবের পিতৃ প্রদত্ত নাম কী?

উত্তর: চৈতন্য দেবের পিতৃ প্রদত্ত নাম বিশ্বাম্বর।


৩৫. প্রজ্ঞা-পারমিতা কি?

উত্তর: প্রজ্ঞা-পারমিতা অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞানের গ্রন্থ। তবে ষট পারমিতার শেষ পারমিতা হিসেবে প্রজ্ঞা পারমিতার উল্লেখ আছে।


৩৬. গীতগোবিন্দ কী?

উত্তর: গীতগোবিন্দ ভারতবর্ষের একটি অত্যান্ত জনপ্রিয় কাব্য ওড়িশার মন্দিরে ওড়িশি নৃত্যের গীতগোবিন্ধ গন উপাসনারই একটি অঙ্গ।


৩৭. 'গীত-গোবিন্দম' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

উত্তর: 'গীত-গোবিন্দম' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন জয়দেব।


৩৮. 'গীতগোবিন্দ' কোন ভাষায় রচিত?

উত্তর: "গীতগোবিন্দ" সংস্কৃত ভাষায় রচিত।


৩৯. বিদ্যাপতি কোন ভাষার কবি ছিলেন? [

উত্তর: সংস্কৃত ভাষার।


৪০. জয়দেব কোন ভাষার কবি ছিলেন?

উত্তর: সংস্কৃত ভাষার।


৪১. 'সুফী' শব্দের উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে?

উত্তর: 'সুফী' শব্দের উৎপত্তি সফ বা সাফা শব্দ হতে।


৪২. সুফিবাদের শিক্ষা কি?

উত্তর: দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে ঐশী প্রেমের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভই সুফিবাদের মূল শিক্ষা।


৪৩. সুফিবাদের স্তরগুলোর নাম লিখ।

 উত্তর: সুফিবাদের স্তর চারটি। যথা: শরিয়ত, মারফত, তরিকত, হকিকত।


৪৪. সুফিজমের স্তর কয়টি ও কী কী?

উত্তর: চারটি। যথাঃ শরীয়ত, মারফত, তরিকত,

হকিকত।


৪৫. সুফীবাদের দুটি মূলনীতি লেখ।

উত্তর: সুফীবাদের দুটি মূলনীতি হলো: ১. সবর ও

২. তাওয়াক্কুল


৪৬. সুফিবাদের দু'টি মূলনীতি লিখ।

উত্তর: সুফীবাদের দু'টি মূলনীতি হলো: (ক) তওবা

এবং (খ) পরিবর্জন।


৪৭. 'ফানা' কী?

উত্তর: সুফি তন্ময়তার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত চেতনাকে মুছে দিয়ে ঐশী চেতনায় উন্নীত হওয়াকে ফানা বলে।


৪৮. 'বাকা' কী?

উত্তর: 'বাকা' মানে ঐশী সত্তায় স্থায়িত্ব লাভ। এই পর্যায়ে সাধক আল্লাহর চেতনায় স্থায়িত্ব লাভ করেন।


৪৯. 'ফানা ও বাকা' কী?

উত্তর: সুফি তন্ময়তার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত চেতনাকে মুছে দিয়ে ঐশী সত্তায় উপনীত হওয়াই হলো ফানা। আর ঐশী সত্তায় স্থায়িত্ব লাভ করাই হলো বাকা।"


৫০. 'বাউল' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: বাউল শব্দের অর্থ ভাবের পাগল বা প্রেমের পাগল।


৫১. বাউল কারা?

উত্তর: বাংলার একশ্রেণির অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, একতারা আশ্রয়ী ভাববিদ্রোহী গায়ক ও সমন্বয়মূলক মরমি সাধকের নাম বাউল।


৫২. বাউল দর্শন কী?

উত্তর: বাংলার একশ্রেণির অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, একতারা আশ্রয়ী, ভাববিদ্রোহী গায়ক, স্বাধীন সমন্বয়মূলক মরমি সাধকের আত্মোপলব্ধিমূলক চিন্তাধারার নাম বাউল দর্শন।


৫৩. প্রেম দর্শনের মূলকথা কি?

উত্তর: জাতি নয়, শ্রেণি নয়, কুল নয়, ভক্তি ও প্রেমই মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়, প্রেমই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।


৫৪. মরমীবাদ কাকে বলে?

উত্তর: মরমিবাদ আধ্যাত্মিক বা আত্মোপলব্ধির দর্শন। পরমসত্তাকে জানার বা পরমসত্তার সঙ্গে একাত্মবোধ মানুষের যে সহজাত বাসনা কিংবা আজীবন পরমসত্তার সান্নিধ্য প্রচেষ্টা তাই মরমিবাদ নামে পরিচিত।


৫৫. বাউল দর্শনে 'চারচন্দ্রভেদ' সাধনা কী?

উত্তর: বাউল দর্শনে 'চারচন্দ্রভেদ' সাধনা হলো শুক্র রজঃ বিষ্ঠা ও মূত্রকে পবিত্র মনে করে একের পর এক এগুলোর ভেদ অতিক্রম করা।


৫৬. "এই মানুষে সেই মানুষ আছে" বলতে লালন শাহা কি বুঝিয়েছেন?

উত্তর: বিরাজমান। মনের মানুষ বা আত্মা আমাদের দেহেই


৫৭. চার্বাক শব্দটির অর্থ কি?

উত্তর: চার্বাক শব্দটির অর্থ মধুর কথা।


৫৮. চার্বাক শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ কী?

উত্তর: চার্বাক শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ মধুর কথা।


৫৯. বৈদিক দর্শন কী? 

উত্তর: আর্য কর্তৃক প্রবর্তিত বেদ ও উপনিষদ কেন্দ্রিক দর্শনই বৈদিক দর্শন।


৬০. বৈদিক দর্শনের উৎস কী?

উত্তর:বৈদিক দর্শনের উৎস হলো বেদ ও উপনিষদ।


৬১. বেদ কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর: চার প্রকার। যথা: ঋকবেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ এবং অর্থববেদ।


৬২. উপনিষদ বলতে কী বুঝ?

উত্তর: গুরুর সামনে উপবিষ্ট হয়ে বসে শিষ্য যে বিদ্যা গ্রহণ করে তাকে উপনিষদ বলে।


৬৩. উপনিষদ কী?

উত্তর: উপনিষদ অর্থ কারো নিকটে বসা অর্থাৎ গুরুর নিকট বসে যে বিদ্যা গ্রহণ করা হয় তার নাম উপনিষদ।


৬৪. কোন কবি 'কোকিল' কবি নামে পারিচিত?

উত্তর: কবি বিদ্যাপতি 'কোকিল' কবি নামে পারিচিত।


৬৫. 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কে রচনা করেন?

উত্তর: চণ্ডীদাস।


৬৬. চন্ডিদাস কে ছিলেন?

উত্তর: চণ্ডিদাস মধ্যযুগের ভক্তিবাদী দার্শনিক।



























চর্যাপদের সহজিয়া দর্শন কি?

 প্রশ্ন - ১২: চর্যাপদের সহজিয়া দর্শন কি? উত্তর: বাংলা সাহিত্য ও দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ও আদি নিদর্শন হলো চর্যাপদ বা চর্যাগীতি। চর্যাপদের পদগুল...